সর্বশেষ :
Thu, 21 Sep, 2017

 
রূপগঞ্জ কি লাশের ডাম্পিং স্টেশন,১০ মাসে ৪৬ অজ্ঞাত লাশ!
Wednesday, 15 October 2014 19:50

altস্টাফ করেসপন্ডেন্ট এনগঞ্জ২৪ ডটকমঃ রূপগঞ্জ কি অজ্ঞাত লাশের ডাম্পিং স্টেশনে পরিণত হয়েছে? এ প্রশ্ন জেলাবাসী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের।

জানা যায়, রাজধানী ঢাকার উপকন্ঠ রূপগঞ্জে গত ১০ মাসে ৪৬ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব লাশের দু’একটির পরিচয় মিললেও অনেক লাশের পরিচয় মেলে না। একের পর এক লাশের খবরে শঙ্কিত মানুষ। শঙ্কিত পুলিশ-প্রশাসন। জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও নানা প্রশ্ন। প্রতিমাসেই ৪/৫ টি করে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে ৩ লাশ উদ্ধারের খবরে গোটা রূপগঞ্জে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অন্য কোনস্থানে হত্যা করে রূপগঞ্জের মহাসড়ক ও সড়ক কিংবা নির্জনস্থানে ফেলে রাখা হচ্ছে লাশ। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এসব অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে খুব একটা আগ্রহ দেখায় না।

থানা পুলিশ সূত্র ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর সূত্রমতে, গত নয় মাসে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৪৬ টির মতো অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, যে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এর প্রায় সবই অন্য এলাকার নারী-পুরুষের। অন্যত্র হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে রেখে যায় অপরাধীরা।

জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারী বিরাব খালপাড় এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা(৪০) এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। তারাব এলাকা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারী যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। সাওঘাট এলাকা থেকে ২৭ মার্চ উদ্ধার করা হয় এক নারীর লাশ। গোলাকান্দাইল মধ্যপাড়া থেকে ১০ এপ্রিল অজ্ঞাতনামা (২৫) এক যুবতীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ৩ মে শীতলক্ষ্যা নদ থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের লাশ। গত ২ জুন বালু নদ থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের লাশ। যাত্রামুড়া টাটকী এলাক থেকে গত ২২ জুলাই উদ্ধার করা হয় এক যুবতীর লাশ। গত ২০ আগষ্ট আধুরিয়া থেকে উদ্ধার করা হয় এক কিশোরীর(১২) লাশ। বলাইখা এলাকায় ৩০ আগষ্ট উদ্ধার করা হয় এক নারীর লাশ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর দাউদপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় এক নারীর (৩০) লাশ। গত ১০ আগষ্ট বরপা থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাতনামা(১৪) বছরের এক কিশোরীর লাশ। ২৫ ই আগষ্ট পিতলগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় স্থানীয় মতিনের লাশ, পহেলা সেপ্টেম্বর মাহামুদাবাদ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ। ৮ সেপ্টেম্বর পূর্বগ্রাম এলাকার শিতলক্ষা নদীর তীরে স্থাণীয় একটি ডকইয়ার্ডের পাশ থেকে পুলিশ উদ্ধার কওে ১১ বছরের এক কিশোরের লাশ, গত ৯ সেপ্টেম্বর বরাব থেকে উদ্ধার করা হয় এক যুবতীর লাশ। ১২ই সেপ্টেম্বর কালাদী এলাকা থেকে এক যুবতীর লাশ, চলতি বছরেই ইছাপুড়া স্কুলের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় এক নারীর লাশ। মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় মাথাবিহীন অজ্ঞাতনামা এক যুবকের ৯ টুকরা লাশ, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা মাদ্রাসার পাশ্বর্তী কলিমদ্দিনেরটেক থেকে উদ্ধার করা হয় আরো একটি লাশ। এছাড়া রূপসী প্রধানবাড়ি এলাকা থেকে নাসা গার্মেন্টেসের কর্তকর্তা এবং একদিন পর আয়েতআলী টেক্সাইল মিলের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় আরো একটি লাশ। চলতি মাসের ২ তারিখ শিতলক্ষা নদীর মুড়াপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে এক অজ্ঞাত পুরুষের গলিত লাশ। দুদিন পর চনপাড়া বেগুনের চর থেকে উদ্ধার করা হয় আরো এক যুবকের লাশ। বর্তমান ওসি যোগদানের পর থেকে গত ১৫ দিনে ৫ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রূপগঞ্জের এক অংশ শিল্পাঞ্চলখ্যাত। আরেক অংশ দুর্গম এলাকা হিসাবে পরিচিত। শিল্পাঞ্চলখ্যাত এলাকা তারাবো, রূপসী, ভুলতা, বরপা, বরাবো, গোলাকান্দাইল, কাঞ্চন, আধুরিয়াসহ আশপাশের এলাকায় বহিরাগত ও ভাড়াটেদের বসবাস বেশি। এসব ভাড়াটিয়া কিংবা বহিরাগতরা বিভিন্ন সময় নানা অঘটন ও খুনের মতো ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে, উপজেলার দুর্গম এলাকা হিসাবে পরিচিত কায়েতপাড়া, ভোলাবো, দাউদপুর ও পূর্বাচল উপশহর এলাকাগুলো কম ঘনবসতিপূর্ণ। এসব এলাকায় এমন স্থান রয়েছে যেখানে মানুষ রাতে যাওয়াতো দূরের কথা দিনে গেলেও গা ছমছম করে। অপরদিকে, কায়েতপাড়া ও রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্বাচল উপশহরের পশ্চিমপাড়ে রয়েছে বালু নদ ঘেষা রাজধানী ঢাকার নি¤œাঞ্চলের দুর্গম এলাকা। ঐসব এলাকায় হত্যাকান্ড ঘটিয়ে রূপগঞ্জে লাশ ফেলে রেখে যায় বলে স্থানীয়রা দাবী করেন। সরজমিনে ঘুরে ও অনুসন্ধানে আরো জানায়, উপজেলার ডেঞ্জার পয়েন্টগুলো হলো এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের ছেলুরবাড়ি এলাকা। এখান থেকে গত দুই বছরে অজ্ঞাতনামা ৫ টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া এ সড়কের পলখান, কালনী, গোলাকান্দাইল চত্বর থেকে কুশাবো পর্যন্ত ফাকা অংশ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আধুরিয়া, কর্ণঘোপ ও আশপাশের নির্জন এলাকা থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া কায়েতপাড়া ইউনিয়নের দেইলপাড়া, মাঝিনা, নাওড়া, দাউদপুর, ভোলাবো ইউনিয়নের বিল-ঝিল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে সুযোগ বুঝে অপরাধীরা লাশ ফেলে রেখে যায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর ধারণা, এসব হত্যাকান্ডের সঙ্গে আশপাশের স্থানীয় অপরাধীরা জড়িত থাকতে পারে। কারণ হিসাবে তারা বলেন, রূপগঞ্জের কোন এলাকা দুর্গম আর কোন এলাকা নির্জন এসব বহিরাগত অপরাধীদের জানার কথা নয়। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ যদি সক্রিয় হয়, তাহলে হয়তো অপরাধীদের সনাক্ত করতে পারবে। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ আর এসব বিষয় নিয়ে আগ্রহ দেখায় না। অ্যাডভোকেট আবুল বাশার রুবেল বলেন, এ এলাকায় লাশ ফেলে রাখায় বিষয়টি খুবই উদ্ধেগজনক। নাম-পরিচয় না থাকায় বেওয়ারিশ হিসাবে লাশগুলোর ঠাই হয় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে। সবচেয়ে বড় কথা অহরহ লাশের খবরে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

   মারুফ-শারমীন স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সরকারী গেজেটভুক্ত সমাজ সেবক আলহাজ্ব লায়ন মোঃ মোজাম্মেল হক ভূইয়া বলেন, রূপগঞ্জ শিল্প এলাকা। এখানে হাজার হাজার লোক বহিরাগত। এছাড়া অনেক দুর্গম এলাকা রয়েছে। তাছাড়া ঢাকার পাশ্ববর্তী হওয়ায় অপরাধীদের ডাম্পিং পয়েন্ট এটা। অপরাধীরা সুযোগ বুঝেই এসব এলাকায় লাশ ফেলে রেখে যায়। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনসহ সবার সচেতন হওয়া উচিৎ। রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল ইসলাম বলেন, নদীতো ¯্রােতমুখী। পলাশসহ আশপাশের এলাকা থেকে লাশ ফেললে স্্েরাতে রূপগঞ্জে এসে আটকে থাকে। আর আমি যোগদানের পর সড়ক-মহাসড়কে কোন লাশ পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লোকমান হোসেন বলেন, রূপগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন এতই সুবিধা, যার ফলে অপরাধীরা লাশ ফেলে অনায়াসে চলে যেতে পারে। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসকে জানানো হয়েছে। অতি শীঘ্রই পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
 

এনগঞ্জ২৪ ডট কমে প্রকাশিত/প্রচারিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে।

সকল শিরোনাম
 
 

সম্পাদক : এস এম ইকবাল রুমি
বার্তা ও বাণিজ্যিক কাযার্লয় : ইয়াজ উদ্দিন ভবন (৪র্থ তলা), এ.সি ধর রোড, কালীর বাজার, নারায়ণগঞ্জ- ১৪০০।

নিউজ রুমঃ ০১৯৮১৬০৯২৫১, ০১৭৭৭৪১২৭৪৪ ই-মেইলঃ nganj24editor@gmail.com