সর্বশেষ :
Thu, 21 Sep, 2017

 
না’গঞ্জে গ্যাসের শাপ মোচন কবে? বিকল্প জ্বালানীতে গ্রাহকদের মাসে খরচ ৯০ লাখ টাকা
Friday, 28 November 2014 20:42

altস্টাফ করেসপন্ডেন্ট এনগঞ্জ ২৪ ডটকম: নারায়ণগঞ্জ নগরীর গ্যাসের গ্রাহকদের এখন বিকল্প জ্বালানীতেই চলছে যাপিত জীবন। এই বিকল্প জ্বালানীর জন্য প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১শ টাকা হিসেবে বাড়তি খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এই হিসেবটা মাসে গুনতে হয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা। এভাবে বিপুল পরিমান টাকা খরচ হওয়ার এক ব্যতিক্রমী নগরীই হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। গ্যাসের অভাব নিয়ে এই নগরীর মানুষগুলোর দিশেহারা হবার চিত্রটা এখন আর অবর্ননীয়ই নয়, হয়ে ওঠেছে বাস্তবতার নিরিখে ভাগ্য লিপি। এই লিপি মোচনে আর কতকাল অপেক্ষায় থাকতে হবে তার কোন জবাব নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। গ্যাস সুবিধা না পেয়েও ঐ বিপুল পরিমান টাকার সাথে প্রতিমাসে মাসে গ্যাস বিল প্রদান করা নারায়ণগঞ্জ নগরীর মানুষের মতে এ হচ্ছে নব মিনি ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নিষ্ঠুর শোষন প্রক্রিয়া। এ শোষনে মানুষের হতাশার দীর্ঘশ্বাস দিন দিন দীর্ঘতর হচ্ছে। আর উদ্বেগ জমা হচ্ছে দিন দিন ক্ষোভের খাতায়।

নারায়ণগঞ্জ নগরীতে চরম সংকট চলছে দীর্ঘদিন। এ সময়টা এখন হয়েছে প্রায় এক দশকের ওপর। বিত্তবান শ্রেণী গ্যাস সংকটে মোটেই বিচলিত নয় এই সংকটে। বিত্তের কারণে এদের রয়েছে ব্যয় বহুল সিলিন্ডার আর ওভেন বিকল্প জ্বালানী ব্যবস্থায়। গ্যাস সংকটে শুধু কপালে ভাঁজ পড়ে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষের। গ্যাসের অভাবে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে এদের নিত্য দিন এখন কেরোসিন, লাকড়ী আর কাঠখড়িতে খরচ হচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। এর মধ্যে বেশি খরচের মাত্রা যোগ হয় কাঠ-খড়ি আর লাকড়ীতে চড়া দামের কারণে। গ্যাস সংকটে নগরীর মধ্য, দক্ষিণ আর পশ্চিম অঞ্চলের বৃহত্তর জন গোষ্ঠিকে প্রায় ৩০ হাজার আবাসিক গ্রাহককে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে খরচ মিটাতে হয় প্রতিদিন গড়ে ১ শ টাকা এ হিসেবে মাসে ৯০ লাখ টাকা।

গ্যাস সংকট নিরসনে নগরীর নাগরিক শক্তির প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছে দফার পর দফা। হয়েছে তিতাস গ্যাস অফিস ঘেরাও। হয়েছে মানব বন্ধন আর গৃহবধূদের ঝাড় থেকে শুরু করে হাঁড়ি মিছিল। এসব কর্মসূচিকে কোন আমলেই নেয় নি থেরাই কেয়ার করা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। ফলে গৃহবধূদের নিত্যদিনের শাপান্ত বেড়েছে। গৃহিনীরা সকালের নাস্তা ঠিকমত দিতে পারছে না স্কুলগামী শিশুদের। দুধও গরম করা যায় না ছোট মনিদের। নিত্যদিনের আহার সামগ্রী করতে হয় দায় সারা। বাড়িতে অতিথি এলে হন্যে হয়ে আপ্যায়নের জন্য ছুটতে হয় হোটেল-রেস্তোরায়। সাপ্তাহিক রসনা মিটাতে খাদ্যপদ করতে হয় সীমিত। সে সাথে রোজকার তালিকাও। একটু আয়েশী খাবার তৈরি এখন আর হয়ে ওঠে না। এ নগরীতে গ্যাস আসে কুপির আলো নিয়ে মাঝ কিংবা ভোর রাতে। তখনই শুরু হয় গৃহিনীদের ব্যস্ততা। গ্যাস চলে যায় সকাল ৭টা। গ্রাহকদের ঘরে ঘরে গ্যাসের বেহাল অবস্থায় তীব্র অসন্তোষ আর চরম ক্ষোভের চাপা দহন যাপিত জীবনকে করেছে রীতিমতো ললাট লিখন। নাগরিক শক্তির আন্দোলনে কোন সুফল বা আশার বার্তা না থাকায় এ আন্দোলনকে নগরবাসীর একটা অংশ ক্ষোভের মিশ্রনে বলছেন কাগুজে আন্দোলন। কেননা এরা কখনোই আদালতমুখী হয়ে আইনানুগ রিট করেনি আদালতের রুল চেয়ে। এ ধরনের রিটের সুফল রয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ফলে নানামুখী প্রশ্নবিদ্ধ হয়েও ওঠেছে নাগরিক শক্তির আন্দোলন। এর সাথে সহজেই যোগ করা যায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা।

গ্যাস সংকট নিরসের সর্বশেষ খবর হচ্ছে: গ্যাসের সরবরাহ বাড়িয়ে দিতে নতুন পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে সিদ্ধিরগঞ্জে। এ কাজের গতি কতটা বেগবান হবে তার ওপরেই নির্ভর করছে গ্যাস সংকট মোচনের আংশিক সুফল। আর পুরো সফলতা আসবে সময় নির্ভরশীলতা কেন্দ্রিক। এমনই তথ্য জানা গেছে সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র থেকে। তবে তিতাসের নারায়ণগঞ্জ অফিস থেকে কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঐ কাজের অগ্রগতি সর্ম্পকে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয় নি। এও এক গভীর রহস্যময়তা। রাতে গ্যাস আসে নিভু নিভু ঘন্টা খানেক মর্জি মাফিক। এ হচ্ছে নগরীর গ্যাসের দিনলিপি।

 

এনগঞ্জ২৪ ডট কমে প্রকাশিত/প্রচারিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে।

সকল শিরোনাম
 
 

সম্পাদক : এস এম ইকবাল রুমি
বার্তা ও বাণিজ্যিক কাযার্লয় : ইয়াজ উদ্দিন ভবন (৪র্থ তলা), এ.সি ধর রোড, কালীর বাজার, নারায়ণগঞ্জ- ১৪০০।

নিউজ রুমঃ ০১৯৮১৬০৯২৫১, ০১৭৭৭৪১২৭৪৪ ই-মেইলঃ nganj24editor@gmail.com