সর্বশেষ :
Thu, 21 Sep, 2017

 
অবরোধ হরতালে সংসার তছনছের পথে না’গঞ্জের ২ হাজার হকার এখন অভাবের ঘরে বন্দী রাস্তায় ব্যবসা চালাতে আতঙ্ক পেট্রোল বোমার
Wednesday, 04 February 2015 21:32

altস্টাফ করেসপন্ডেন্ট এনগঞ্জ ২৪ ডটকম: সংসারের চাকা আর চলছেনা হকারদের। নিত্য আয় দিয়ে যাদের সংসার চলে তারই এখন অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। সামান্য পুজি নিয়ে ফুটপাতে পন্যের পসরা বসিয়ে যারা ব্যবসা করে টানা অবরোধ আর হরতালের কারনে তাদের জীবনে নেমে এসেছে অভাব আর অনটন। সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিমের মধ্যেই কাটে সারাদিন। রাস্তায় নেমে মালামাল বিক্রি করার সময় আতঙ্কে থাকতে হয় পেট্রোল বোমার।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেট, বঙ্গবন্ধু সড়ক, ১নং রেল গেইট, ২নং রেল গেইট, ডিআইটি, কালির বাজার, দ্বিগু বাজার এলাকা গুলোতে হকাররা পোষাক, খাদ্য, বই, ক্রোকারিজ, জুতা, খেলনা, ইলেট্রনিক সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা করছেন। ব্যবসা মন্দার কারনে অনেকে দোকানে আসছেন না।

একাধিক হকারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিন-চার মাস আগেও হকারদের ব্যবসা ভেদে প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৫শ’ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ১৫শ’ টাকা রোজগার হতো। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোজগারের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫০ থেকে ৩শ’ টাকা। ফলে অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই যেসব ব্যবসায়ীর এখনো লোকসান হয়নি তাদেরও একই পরিণতি হবে।

চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের সামনে বসা জুতা ব্যবসায়ী মোঃ আলী জানান, হরতাল অবরোধের কারনে ব্যবসা খুবই খারাপ চলছে। এ ব্যবসাতে লাভ আছে। কিন্তু গত ২ মাস ধরে লোকসান হচ্ছে। ক্রেতা নেই তাই বেচা বিক্রি নেই। গত বছরে অনেক হরতাল অবরোধ হওয়ায় আমার প্রায় ৬০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। আমাদের মত সাধারন মানুষদের দেখার কেউ নেই।

একই এলাকার পোষাক ব্যবসায়ী মোঃ সিরাজ জানান, অবরোধের কারনে মানুষ এখন আতঙ্কিত। কারো জানমালের নিরাপত্তা নেই। আমরা এখানে এসেছি নিজেদের জীবিকার তাগিদে। সকালে যেমন তেমন, রাতে একটু বেচা বিক্রি হয় বলে দুই বেলা খেয়ে বেঁচে আছি। আগে পোষাক বিক্রি করে লাভ হতো দৈনিক ২ হাজার টাকা, আর এখন ২ দিন যাবত কোন বিক্রিই হচ্ছেনা। এখানে পূর্বে ৭শ’ ৫০ জন হকার থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ৫০ জনই ব্যবসা বন্ধ করে চলে গেছে। ফলে অনেকেরই ঋনের বোঝা বেড়েই চলছে।

কালির বাজার পুরাতন কোর্ট সংলগ্ন এলাকার চারা গাছ ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, ২ নেত্রীর(খালেদা-হাসিনা) কারনে এখন আমাদের সংসারে আগুন জ্বলছে। আগে চারা বিক্রি করে সংসার চালিয়েও টাকা থাকতো। আর এখন ঋন করে সংসার চালাতে হচ্ছে। আগে দৈনিক ১ হাজার টাকা আয় হলেও এখন তা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১শ’ টাকায়। এমনি ভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

২নং রেল গেইট সংলগ্ন এলাকার ফল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, হরতালের কারনে ফলের দাম যেমনি ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তেমনি নষ্টও হচ্ছে। হরতাল অবরোধের কারনে কারো আয়-রোজগার ভাল যাচ্ছেনা। তাই ক্রেতাশূণ্য হয়েছে ফলের দোকান। ঋন করে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। আমরা সাধারন মানুষ রাজনৈতিক সহিংসতার কারনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। আমরা এখন শান্তি ফিরে চাই। শান্তিতে ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

মিড টাউন মার্কেটের সামনে বসা বই বিক্রেতা সীমান্ত বলেন, ঢাকা থেকে মাল আনতে না পারায় বিক্রিও হচ্ছে কম। আর ঢাকা থেকে বই আনতে গেলেও থাকে আগুনের ভয়। তাই বই আনার সময় সিএনজিতে করে আসি। তখন সিএনজির দরজা খোলা রেখে আসি। কারন যদি দূর্বৃত্তরা গাড়িতে পেট্রোল বোমা মারে তবে রাস্তায় ঝাপ দেবো। তার দাবী আগুনে পুড়ে মরার চেয়ে হাত-পাঁ ভেঙ্গে বাঁচা ভাল।

হকারদের একাধিক সূত্রে জানা যায়, স্বল্প পুঁজি নিয়ে নারায়ণগঞ্জে মোট দেড় থেকে দুই হাজার হকার বসবাস করছেন। এদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ হকার কাপড়, ২০ শতাংশ হকার খাদ্য জাতীয় পণ্য বিক্রি করেন। বাকি ৪২ শতাংশ হকার বই, জুতা, খেলনা, মাটির জিনিসপত্র, গাছের চারা, ইলেট্রনিক সামগ্রীর ব্যবসা করেন।

সূত্র জানায়, হকারদের একেক জনের পুঁজি প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বা তারও বেশি। ওই পুঁজি খাটিয়ে তারা প্রতিদিন গড়ে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা আয় করেন। প্রতিদিন তাদের আলাদা ভাবে খরচ হচ্ছে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। এ ছাড়া দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই হকারের কাছ থেকে নিত্যপণ্য কিনে থাকেন। এ পেশায় আসার আগে প্রত্যেক পরিবার নিয়ে থাকা, খাওয়া, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করা বা তাদের টিকে থাকা সম্ভব ছিল না, অনেকেই ছিলো বেকার। এ পেশায় এসে অধিকাংশ হকার পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আবারো বেকার হতে যাচ্ছে।

চাষাঢ়া পৌর হকার্স মার্কেটের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে হকারদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি ক্রেতার সংকট। লাগাতার অবরোধে ক্রমাগত ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রিও কমে গেছে। ফলে অধিকাংশ হকার মানবেতর দিনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ঋণের বোঝা বাড়বে। বর্তমানে হকারদের দোকান খুললেই প্রতিদিন নূন্যতম ৩শ থেকে ৪শ’ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে চাঁদা, বিদ্যুৎ, ঝাড়ুদার বিল অন্যতম। সারাদিনে যা বিক্রি হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে লাগাতার অবরোধ চলতে থাকলে তাদের বেকার হতে হবে। পাশাপাশি অবরোধের কারণে আবাসন, পরিবহন, তৈরি পোশাকশিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো হকার লোকসানের কারণে চালানের(পুজি) টাকা ভেঙ্গে খেতে শুরু করেছে।

 

 

এনগঞ্জ২৪ ডট কমে প্রকাশিত/প্রচারিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে।

সকল শিরোনাম
 
 

সম্পাদক : এস এম ইকবাল রুমি
বার্তা ও বাণিজ্যিক কাযার্লয় : ইয়াজ উদ্দিন ভবন (৪র্থ তলা), এ.সি ধর রোড, কালীর বাজার, নারায়ণগঞ্জ- ১৪০০।

নিউজ রুমঃ ০১৯৮১৬০৯২৫১, ০১৭৭৭৪১২৭৪৪ ই-মেইলঃ nganj24editor@gmail.com