সর্বশেষ :
Thu, 21 Sep, 2017

 
সাক্ষাৎকারে না’গঞ্জ পুলিশ সুপার না’গঞ্জের জনগণের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মানুষকে নিয়ে বানিজ্য করা এটা কোন পেশাদার পুলিশের কাজ নয়
Wednesday, 04 February 2015 21:48

altস্টাফ করেসপন্ডেন্ট এনগঞ্জ ২৪ ডটকম: অবরোধ-হরতালের নামে রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছে। একদিকে গাড়ি পুড়ছে, অন্যদিকে আতংকের কারনে এক ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। রাস্তায় যারা নামছেন অনেকে নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। সবার মধ্যে একটাই কথা ‘কখন কি হয়’। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে চলছে টানা অভিযান। অনেকে প্রাণনাশের আতংকে রয়েছেন বলে মিডিয়ার কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান,  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে শান্তি নিশ্চিত করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দিন যতই যাচ্ছে ততই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মানুষ অভিযোগ করছেন। চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা(এসপি) কি ভাবছেন ? সাধারন মানুষের জন্য তার ‘বার্তা’ কি? এসব জানাতে বুধবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন এর মুখোমুখী হয়েছিল লাইভ নারায়নগঞ্জ ডট কম ।

প্রশ্ন: জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে কি না?

পুলিশ সুপার: নারায়নগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে

প্রশ্ন: মানুষের মাঝে একটা আতংক দেখা দিয়েছে ‘কখন কি হয়’ এব্যাপারে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে আপনার মেসেজ কি?

পুলিশ সুপার: এধরনের নাশকতা যারা করে তারা মানবতার শত্রু। তার কারন হলো তারা যা করছে, তা অত্যন্ত নৃশংস ও নিষ্ঠুর আচরন। এগুলো সন্ত্রাসীদের কাজ, কোন রাজনৈতিক বা দলের কর্মসূচী বলে আমি মনে করি না। সন্ত্রাসীরাই এই চোরাগুপ্ত হামলা করছে। তাদের দ্বারা নিরীহ, খুব সাধারন, যারা রাজনীতি বুঝেও না, তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে আমাদের যা আছে, সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি।

প্রথম দিকে নাশকতা করতে পারলেও আপনারা দেখেছেন আমরা হাতে-নাতে ১২জনকে গ্রেফতার করেছি। ৭জন স্বেচ্ছায় ১৬৪ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে যা, আমার জানা মতে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ। এমনকি ঢাকা মেট্রোপলিটনেও কিন্তু ৭জন ১৬৪ ধারায় জবান বন্দি দেয়নি। এইটা আমাদের শ্রমের ফসল। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে সদা প্রস্তুত। সাধারন মানুষের প্রতি আমার ম্যাসেজ, ‘আপনাদের জানমালের নিরাপত্তা আমরা দেব’ই ’। তার জন্য আমাদের যত কস্ট’ই হোক, যা যা করার আমরা করবো।

প্রশ্ন; বর্তমানের এই সংকটময় মূহুর্তে পুলিশ রাত-দিন ব্যস্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে তাতে কি থানা পুলিশ থেকে স্বাভাবিক সেবাটা জনগন পাচ্ছে?

পুলিশ সুপার: আসলে পুলিশের কার্যক্রমের কোন সীমারেখা নেই। আগামীকাল বা আজ বিকালে যে পুলিশের কি কাজ হবে থানা এলাকার ওসিও জানেনা এসপিও জানেনা তাকে কি কি কাজ করতে হবে। পুলিশ যে কোন ইস্যুকে মোকাবেলায় মানসিক ভাবে সব সময় প্রস্তুত থাকে। গত ১মাস ধরে যে অবস্থা বিরাজ করছে, মানুষকে ভয় ভীতির মধ্যে রাখা এবং চোরাগুপ্ত হামলা, তার জন্যে আমাদের বাড়তি সময় দিতে হচ্ছে, বাড়তি জনবল দিতে হচ্ছে। তাতে আমাদের অন্যান্য কোন কাজই বন্ধ রয়েছে, তা নয়। সব সেবাই ঠিক আছে। তবে এটা ঠিক আমাদের উপর ধকলটা একটু বেশী যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের অফিসাররা ১৬/১৮ঘন্টা ২২ঘন্টা কেউ কেউ হয়তো সারাদিনে সারারাতেও ঘুমায় না। আমরা আমাদের অধিক পরিশ্রমের মাধ্যমে সকল সেবা ঠিক রেখেছি, যাতে স্বাভাবিক নাগরিক সেবা থেকে কেউ বঞ্চিত না হয়। অন্যান্য সেবার উপর যাতে কোন চাপ না পরে তার জন্যেই কিন্তু অতিরিক্ত শ্রম দিচ্ছি। তবে এটা সত্যি আমরা এখন যে শ্রম বর্তমান পরিস্থিতির জন্যে দিচ্ছি, হয়ত এদিকে এত সময় দিতে না হলে অন্যান্য সেবার মান অনেক অনেক গুন বেড়ে যেত।

প্রশ্ন: বর্তমান এই পরিস্থিতিতে আগের মামলার তদন্তে কোন রকম স্থবিরতা চলে আসছে কিনা?

ড. মহিদ বলেন, তেমন কোন বাধা গ্রস্ত হচ্ছে না বা আমরাও তদন্তের কোন রকম কোয়ালিটি ডাউন হতে দিবো না। আমরা প্রয়োজনের বেশী কাজ করে যাবো, তবু কোয়ালিটির সাথে কম্প্রোমাইজ করবো না। এখানে বেশী শ্রম সময় ব্যয় না করতে হলে আমরা অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন কলকারখানা শিল্প, ট্রাফিকসহ সর্বত্র সেবাটা আরো বাড়িয়ে দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীকে আরো সুন্দর ভাল কিছু উপহার দিতে পারতাম।

প্রশ্ন: বিএনপির অনেক নেতা মিডিয়ার কাছে দাবী করছে ক্রস ফায়ার (তাদের ভাষায়) তাড়া করে বেড়াচ্ছে । নেতাদের স্বজনরাও আতংকগ্রস্থ এব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?

পুলিশ সুপার: আমরা কাউকে তাড়া করে বেড়াচ্ছি না। তবে কারো নিজের মন যদি নিজেকে তাড়া করে বেড়ায় তাহলো তো আর আমার কিছু করার নাই। কোন অপেশাদার কার্যক্রম, অপেশাদার আচরণ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ করেনা, প্রশ্রয়ও দেয় না।

প্রশ্ন: প্রতিদিন’ই ২০দলীয় জোটের নেতাকর্মী বা নাশকতায় জড়িতদের গ্রেফতাওে অভিযান চলছে। এই অভিযান চলাকালীর সময়ে নিরীহ সাধারণ মানুষ কি হয়রানির স্বীকার হচ্ছে বা কোন গ্রেফতার বানিজ্যের অভিযোগ কি আপনার কাছে আছে?

পুলিশ সুপার: নারায়ণগঞ্জের সকল পুলিশকে বলে দেয়া আছে, আমি চাকুরি করি মানুষকে সেবা দেয়ার জন্যে। মানুষকে হয়রানি করা, মানুষকে নিয়ে বানিজ্য করা এটা কোন পেশাদার পুলিশের কাজ নয়। এবং কোন বিবেকবান পুলিশ অফিসার বা সরকারী চাকরিজীবী কাজও হতে পারে না। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি আমার দু’হাজার সদস্য কেউ এই কাজে জড়িত নয়। এর পরেও যদি কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসে, সেই ব্যপারে আমার আবস্থান জিরো টলারেন্স। এইটা কোন ভাবেই বরদাসত করা হবে না।

প্রশ্ন: নাশকতায় ২৬দিনে প্রায় ১১কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ অনেকে মনে করেন এভাবে চলতে পারেনা। জনগনের সম্পদ রক্ষায় পুলিশ কি তাহলে ব্যর্থ?

পুলিশ সুপার: ব্যর্থতা কি দিয়ে পরিমাপ করা হয়? তিনি বলেন, সকল কলকারখানা চলছে, গাড়ি চলছে স্বাভাবিক ভাবে আপনারা চলছেন, এইটা কি সফলতা নয়। কিছু লোক চোরগুপ্তা হামলা করছে তা তো আর ব্যর্থতা নয়। বরং ঐ নাশকতাকরীদেরই ব্যর্থতা, তারা চোরাগুপ্তা হামলা করছে।

প্রশ্ন: নাশকতাকরীরা এখন পুলিশের উপরও হামলা করছে এই ব্যপারটা কিভাবে দেখছেন?

ড. মহিদ এটা এখন ঐ হামলাকারীদেও হতাশা থেকে হচ্ছে। তারা চরম দৈলিয়ার পরিচয় দিচ্ছে। না হলে তারা পাগল হয়ে গেছে। কারন পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, সকলের সম্পদ। এর খেসারত বা তারা তাদের পরিনতি ডেকে নিয়ে আসছে।

প্রশ্ন: সংকটময় এমন পরিস্থিতিতে নারায়নগঞ্জের সাধারন মানুষের উদ্দ্যেশে জেলা পুলিশ সুপার মেসেজ কি?

ড. মহিদ : জেলাবাসী সর্তক থাকবেন, সচেতন নাগরিক হিসেবে সবাই অপরাধীদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করুন। আর যারা এমন চোর গুপ্তা হামলা করছে- শিশু নারী নিরীহ সকলের উপর হামলা করছে তারা মানুষ নয়, তারা পশু। এই পশুদেরকে বলবো, আপনারা মানুষের কাতারে ফিরে আসুন। পশুত্ব বন্ধ করে সুস্থ মনুষত্ব লাভ করুন। নইলে আইনের আওয়াতায় আপনাদের কঠোর ভাবে আসতে হবে।

 

 

এনগঞ্জ২৪ ডট কমে প্রকাশিত/প্রচারিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে।

সকল শিরোনাম
 
 

সম্পাদক : এস এম ইকবাল রুমি
বার্তা ও বাণিজ্যিক কাযার্লয় : ইয়াজ উদ্দিন ভবন (৪র্থ তলা), এ.সি ধর রোড, কালীর বাজার, নারায়ণগঞ্জ- ১৪০০।

নিউজ রুমঃ ০১৯৮১৬০৯২৫১, ০১৭৭৭৪১২৭৪৪ ই-মেইলঃ nganj24editor@gmail.com