সর্বশেষ :
Thu, 21 Sep, 2017

 
এমপি শামীম ওসমানের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন আড়াইশত বছরের পুরানো ঐতিহাসিক জিউস পুকুরটি আজ বিলপ্তির পথে
Tuesday, 03 March 2015 21:30

altস্টাফ করেসপন্ডেন্ট এনগঞ্জ ২৪ ডটকম: শত শত বছর আগের কথা। যখন দেওভোগে বিকরন ঠাকুর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শ্রী শ্রী রাজা লক্ষীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দির। এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা হয় আজ থেকে প্রায় আড়াইশত বছর আগে। ১১৭৩ বাংলা সনে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করার সময় পূঁজোর কাজের জন্য বিকরন ঠাকুর মন্দিরের পাশে একটি বিরাট দিঘি খনন করেন। মন্দিরটির নাম অনুসারে এ দিঘিরটির নাম দেওয়া হয় জিউস পুকুর। এ পুকুরটিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রতিমা বির্সজন সহ নানা পুঁজোনীয় কাজে ব্যবহার করতো। এ পুকুরটির মোট ঘাটলা ছিলো প্রায় ৬-৭টি। বর্তমানে এ পুকুরের প্রায় সব ক’টি ঘাটলাই বিলপ্তির পথে। পৌষ সংক্রান্তির সময় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গোটা দেওভোগবাসীর সর্বধর্মের প্রায় হাজার হাজার মানুষ এ পুকুর ঘাটে ¯œানের মধ্যে দিয়ে পৌষ তথা শীতকালকে বরন করে নিত। শুধু তাই নয়, তখন এ পুকুরের জল এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে, এ জল প্রাণ করে স্থানীরা জীবন ধারনও করতো। এ জিউস পুকুরটি যেন স্থানীয় এলাকাবাসীদের কাছে ভগবানের এক আর্শিবাদ স্বরূপ ছিল, এবং সে রূপেই স্থানীরা এ পুকুরটিকে ভক্তি করতো। আর তাই এ পুকুরের কূলঘেষে গড়ে ওঠেছে শীতলা মন্দির, শনি ও কালি মন্দির, গৌরনিতাই আখরাসহ আরো বেশ কয়েকটি আখড়া। যেখানে আজো হিন্দু সম্প্রদায় লোকেরা তাদের প্রভূকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে পূঁজো করেন। ভক্তি করেন। আজো সেই মন্দির ও আখড়াগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই শত শত ভক্তদের দেখা মিলে। কিন্তু বড় র্দূভাগ্য হলেও সত্য যে, যেই পুকুরটিকে ঘিরে এত ভক্তিমূলক ধর্মীয় উপাসনা গড়ে ওঠেছে, আজ সেই পুকুরটিই সম্পূর্ণ অবহেলায় র্জজরিত। শত শত বছর পুরানো ঐতিহাসিক জিউস পুকুরটি আজ প্রায় এক তৃতীয়াংশ প্রভাবশালীদের দখলে। যেখানে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট ও দালানকোঠা রয়েছে। বাকি একাংশের অর্ধাংশ ডাস্টবিনে পরিনত হয়েছে আর সর্বশেষ যতটুকু রয়েছে তাও কচূরিপানা দিয়ে ভরা। সুতরাং বলতে গেলে শত শত বছরের ইতিহাস বহন করা ঐতিহাসিক জিউসপুকুরটি আজ সম্পূর্ন বিল্পতির পথে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা হলে তারা খবর প্রতিদিনকে জানান, মূলত রক্ষাবেক্ষনের অভাবেই এ পুকুরটির এমন খারাপ অবস্থা হয়েছে। এ পযর্ন্ত যেই জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, তারা সবাই কথা দিয়েছিলেন যে, এ পুকুরটিকে রক্ষা করার জন্য যা যা করনীয় সবই করবেন। কিন্তু বাস্তবে তার সম্পূর্ন ভিন্ন রূপ। নির্বাচনে জয়ী হবার পর পরই তারা সে কথা একদমই ভুলে গেছেন।

এদিকে খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, জাল দলিলের মাধ্যমে অনেকে এ জিউস পুকুরটির মালিকানা দাবী করে আসছে। অথচ এ পুকুরটি শ্রী শ্রী রাজা লক্ষীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দিরে জায়গা অর্থাৎ দেবত্তোর সম্পত্তি। এ বিষয়ে পরিস্কার করে জানতে এবং সংবাদের স্বার্থে আমি আরেকটু গভীরে যাওয়ার চেষ্ঠা করলাম। এবারে আসা যাক্ এ পুকুরটির মূল দলিলের বিষয়ে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধকালীন কমান্ডার গোপীনাথ দাস জানালেন, মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে শ্রী শ্রী রাজা লক্ষীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দিরের মহারাজ রাজেন্দ্র প্রসাদ জা-এর সাথে দলিল করে জমু মিঞার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটা হলো এই যে, জিউস পুকুরে মৎস্য চাষ করে যতটাকা লাভ হবে তার অর্ধেক লভাংশ মন্দিরের কাজে ব্যবহার করা হবে এবং বাকি অর্ধেক জমু মিঞায় নিজে রাখবেন। এ চুক্তির মাধ্যমে চলে যায় বেশ কয়েক বছর। হঠাৎ মহারাজ রাজেন্দ্র প্রসাদ জা গোপন সুত্রে জানতে পারেন যে, জাল দলিলের মধ্যে দিয়ে পুকুরটি দখলের চেষ্ঠা করছে জমু। পরে মহারাজ বাধ্য হয়ে নিজে বাদি হয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা চলা কালে মহারাজ রাজেন্দ্র প্রসাদ জা’র মৃত্যু হয়। পরে মামলার বাদির মৃত্যু হওয়ায় মহামান্য হাইকোর্ট জমুর পক্ষে ডিগ্রি প্রদান করেন। সেই রূপে ঐতিহাসিক জিউস পুকুরটির মালিক বুনে যান জমু মিঞা। জমু মিঞার মৃত্যুর মালিক হোন তার ভাই গিয়াস মিঞা। তার পর গিয়াস মিঞারও মৃত্যু হয়। বর্তমানে পুকুরটি তাদের পরিবারের দখলেই আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে পুকুরটি রক্ষার্থে বহুবার স্থানীয় এলাকাবাসী ও ধর্মীয় উপাসনার ব্যক্তিবর্গ নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভির স্বরণার্পন হওয়ার চেষ্ঠা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে খবর প্রতিদিনকে জানিয়েছেন। এলাকাবাসী আরো জানান, যারা জিউস পুকুরটি দখলের পায়তারা করছে তারা সকলে মেয়র আইভির আত্মীয় স্বজন। তাই এ ব্যপারে বার বার মেয়র আইভির কাছে গিয়েও আমাদের কোন লাভ হয় নি। তাই আজ আমাদের একটাই ভরসা, আর তাহল এমপি শামীম ওসমান। আমরা পুকুরটিকে বাঁচানোর জন্য শামীম ওসমানের সহযোগিতা চাই।

উল্লেখ্য গত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয়দের আয়োজনে এক জনসভায় বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের অন্যতম ঘোষনা ছিলো যে, এই ঐতিহাসিক জিউস পুকুরটিকে অবমুক্ত করে পুনোরায় দেওভোগবাসীর মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হোন। তাই তিনি সেই কাজটি করতে পারেননি। কিন্তু আবার আজ যখন তিনি সংসদ সদস্য হয়েছেন তাই দেওভোগবাসীর আশা আবার নতুন করে জেগে ওঠেছে। দেওভোগবাসী বিশ্বাস করেন, শামীম ওসমানের পক্ষেই জিউস পুকুরটিকে অবমুক্ত, দখলমুক্ত করা সম্ভব। তাই জিউস পুকুরটিকে অবমুক্ত, দখলমুক্ত করার জন্য দেওভোগবাসী আজ সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কেননা, দেওভোগবাসী মনে করেন এ পুকুরটি দখলমুক্ত করা হলে আবারো সেই আগের মত আলোকিত হয়ে ওঠবে গোটা দেওভোগ এলাকা। আর পুকুরটি ফিরে পাবে তার পুরানো ঐতিহ্য।

                                                                                                                                                                      মিলন বিশ্বাস হৃদয়

 

 

এনগঞ্জ২৪ ডট কমে প্রকাশিত/প্রচারিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে।

সকল শিরোনাম
 
 

সম্পাদক : এস এম ইকবাল রুমি
বার্তা ও বাণিজ্যিক কাযার্লয় : ইয়াজ উদ্দিন ভবন (৪র্থ তলা), এ.সি ধর রোড, কালীর বাজার, নারায়ণগঞ্জ- ১৪০০।

নিউজ রুমঃ ০১৯৮১৬০৯২৫১, ০১৭৭৭৪১২৭৪৪ ই-মেইলঃ nganj24editor@gmail.com