সর্বশেষ :
Thu, 21 Sep, 2017

 
স্কুল শিক্ষার্থী সাদমান হত্যা, নেপথ্যে ২৮ লাখ টাকা
Friday, 06 March 2015 20:15

altস্টাফ করেসপন্ডেন্ট এনগঞ্জ ২৪ ডটকম: কাঞ্চন পৌরসভার মাস্কো স্কুলের নার্সারীর ছাত্র সাদমান হোসেন আপন হত্যার নেপথ্যে ২৮ লাখ টাকা ও পৌর মেয়রের আদালতই দায়ী বলে জানা গেছে। মেয়রের আদালতে বিচার হওয়ার এক মাস পর বিবাদী নাসের হোসেন বাদী জাহিদ হোসেনের ছেলে স্কুল শিক্ষার্থী সাদমান হোসেন আপনকে অপহরণ করে। এরপর ৩২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। সাড়ে নয় লাখ মুক্তিপণ নেওয়ার পরও নাসের হোসেন শিশু সাদমানকে হত্যা করে। হত্যার ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও মামলার প্রধান আসামী নাসির হোসেন ওরফে নাসেরকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নাসির হোসেনকে পৌর মেয়র বিভিন্নভাবে শেল্টার দিচ্ছে বলে মেয়রের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়। এদিকে, সাদমান হত্যার আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রূপগঞ্জ।

শুক্রবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ ৯ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে একজন পুলিশের কাছে অপহরণ ও হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। অপরদিকে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নাসের হোসেনকে বাচাতে কাঞ্চন পৌর মেয়র দেওয়ান বাদশা মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত সাদমানের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গত এক বছর আগে নিহত সাদমানের পিতা জাহিদুল ইসলামের কাছ থেকে জমি কেনার কথা বলে তারই চাচাতো ভাই ও অপহরণের মূল হোতা নাসির হোসেন ওরফে নাসের ২৮ লাখ টাকা ধার নেন। টাকা ফেরত দেওয়ার সময় হলে জাহিদ হোসেন নাসেরের কাছে টাকা দাবী করে। এরপর থেকে দেই দিচ্ছি বলে টালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে নাসের হোসেন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হয় শত্রুতা। এদিকে, গত দুই মাস আগে নাসের হোসেন এলাকায় ফিরতে কাঞ্চন পৌরসভার মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পৌরসভার মেয়র জাহিদের পাওনা টাকা পরিশোধ করার জন্য নেসার হোসেনকে এক মাসের সময় বেধে দিয়ে রায় দেয়। বলে দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয় ক্ষোভ। সঠিক সময়ে টাকা পরিশোধ না করায় জাহিদ মেয়রের শরণাপন্ন হয়। পরে মেয়র মোবাইলে নেসার হোসেনকে ডেকে এনে পাওনাদার জাহিদের হাতে তুলে দেয়। পরে পাওনাদার জাহিদ, তাইজদ্দিনসহ আরো কয়েকজন নাসের হোসেনকে আটক করে রাখে। বন্দি অবস্থা থেকে নাসের হোসেন কৌশলে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নেসার হোসেন ও তার ভাই আবুল বাশার। এরপর থেকে পরিকল্পনা আঁটতে থাকে প্রতিশোধের। বিভিন্ন সময় জাহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজনকে দিতো হুমকি।

নিহতের পরিবার জানায়, গত ২১শে ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খেলাধুলা করার জন্য সাদমান বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সাদমান নিখোজ হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামী মাসুম হোসেনের নারায়ণগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তির জবানবন্দির বরাত দিয়ে কাঞ্চন ফাড়ির ইনচার্জ ( উপপরিদর্শক ) তসলিমউদ্দিন জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারী মাজেদা বেগম সাদমানকে কাছে ডেকে নিয়ে ঘুরার কথা বলে একটি মাইক্রোবাসে করে বিরাব গ্রাম থেকে ওঠিয়ে নিয়ে যায়। সাদমানকে অপহরণ করার সময় তার সঙ্গে মাহফুজের স্ত্রী নীলাসহ আরো চার জন ছিলো গাড়িতে।

পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়, মুক্তিপণের জন্যই তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। মুক্তিপণের টাকা দিয়েই পাওনাদার জাহিদের টাকা পরিশোধের চিন্তা ছিলো নাসের হোসেনের। অপহরণের পর ঐ রাতেই কুড়িল-বিশ্বরোডের ( ৩’শ ফুট ) সাদমানকে নাসের হোসেন ও মাসুম শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর জাহিদ হোসেনের কাছে মুক্তিপণ বাবদ ৩২ লাখ টাকা দাবী করে। ছেলেকে ফেরত পেতে অপহরণকারীদের প্রথম দফায় বিকাশ একাউন্টে দেড় লাখ টাকা দেয় জাহিদ হোসেন। পরে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের মায়ারবাড়ী-চানখালী টেক্সটাইলের মাঝখানে ফাকা জায়গায় সিএনজিযোগে আসা মুখোশ পড়া দুইজনের কাছে দেওয়া হয় আট লাখ টাকা। এরপর থেকে অপহরণকারীদের মোবাইল ফোন বন্ধ পায় জাহিদ। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে মাসুম হোসেনকে আটক করে। এরপর আরো ৮ জনকে আটক করা হয়। পরে মাসুম হোসেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী ২৩ ফেব্রুয়ারী অপহরণকারীদের বাড়ির পাশে একটি লাউয়ের মাচার নিচে মাটিতে পুতে রাখা সাদমানের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পিতা জাহিদ হোসেন বলেন, বিচার-সালিসের কারণেই আসার সোনার টুকরা পোলারে হারাইলাম। টাকা পাই ও যহন পারতো তহন দিতো। নাসেররে ধইরা নেওয়ার পর কইছিলো, একবার ছুটতে পারলে এর প্রতিশোধ নিবো। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

এদিকে মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশার ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত ২৪ ফেব্রুরারি রাত ৯টার দিকে মেয়র দেওয়ান বাদশা গাজীপুরের চৌরাস্তায় একটি রোস্তোরায় অভিযুক্ত হত্যাকারী নাসের হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ দেড় ঘন্টা গোপন বৈঠক করে। মামলা থেকে বাচাতে তিনি নাসের হোসেনের কাছে এক কোটি টাকা দাবী করে। এ ব্যাপারে মেয়র দেওয়ান আবুল বাদশার সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার এখানে বিচার হয়েছে এটা সত্যি। তবে এরকম ঘটনা অইবো এইডা জানতাম না। গোপন বৈঠকের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা মিথ্যা কথা। কাউকে বাচানোর জন্য আমি কোনপ্রকার চেষ্টা করিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ( উপপরিদর্শক ) তসলিমউদ্দিন বলেন, এ পযন্ত ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। একজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। নাসের হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্তে বোঝা গেছে, বিচার-সালিসে অপমান হওযার পর থেকে নাসেরের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এরপরই সে প্রতিশোধের নেশায় মেতে ওঠে।

 

এনগঞ্জ২৪ ডট কমে প্রকাশিত/প্রচারিত যে কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার করা যাবে।

সকল শিরোনাম
 
 

সম্পাদক : এস এম ইকবাল রুমি
বার্তা ও বাণিজ্যিক কাযার্লয় : ইয়াজ উদ্দিন ভবন (৪র্থ তলা), এ.সি ধর রোড, কালীর বাজার, নারায়ণগঞ্জ- ১৪০০।

নিউজ রুমঃ ০১৯৮১৬০৯২৫১, ০১৭৭৭৪১২৭৪৪ ই-মেইলঃ nganj24editor@gmail.com